গণপিটুনির ডাক

১। “মোগো গরিবগো মাইররা যারা রাজনীতি করে, ও আল্লাহ তুই তাগো বিচার করিস।”

২। কোনো বড় রাজনীতিবিদ তো হরতালে প্রাণ হারান না। আমার মায়ের মৃত্যুর জন্য তাঁরাই দায়ী। আমার মায়ের রক্ত তাঁদের হাতে। আরব দেশের সব সুগন্ধি কি পারবে রাজনীতিবিদদের হাত থেকে রক্তের এই গন্ধ দূর করতে?

৩। এবার রাজনীতিবিদদের কন, তারা যেন আমাদের সবার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।’

৪। ‘রাজনীতি নিরীহ মানুষটার জীবন কাড়ি নিল। এই রাজনীতিরে থুতু দেই।’

৫। “গত বছর ভোট দিছিলাম। কেউ ভালো না। আগে সুস্থ হইয়া লই, আর কেউরে ভোট দিমু না।”

৬। বিচার চাই না, আইন চাই না, শাসন চাই না! হ্যা চাই না। কোন বিচারের দাবি নাই। কোন আইন আছে কি নেই, আইন কি অধিকার দিয়েছে কি দেয়নি, কোন কিছুই চাই না। শুধু চাই প্রতিশোধ। বাংলার মানুষ আর কাউকে বিচারক অথবা শাসক হিসেবে চায় না। যেখানে সন্ত্রাসী সেখানেই প্রতিরোধ পিটিয়ে শুয়রের বাচ্চাদের মেরে ফেলা হবে। যেখানেই রাজনীতিবিদ সেখানেই প্রতিরোধ, গণপিটুনির মাধ্যমে তাদের বিচার করা হবে। 

৭। শালা জারজ জামাইত্যা পত্রিকায় ছবি পাঠাইয়া সন্ত্রাসের কৃতিত্ব দাবী করে। ইসলাম ইসলাম কইরা মুখে ফেনা তুলে। ইসলামী রাজনীতি করে। শুয়রের বাচ্চারা। মোনফেকের দল। ইসলাম কি কইসে বাসে আগুন দে মানুষ মার। সাধারন মানুষ। ককটেল আর পেটরোল বোমা তগো পুটকিয়া দিয়া ভইরা দিমু। 

উপরোক্ত কথাগুলো মানুষের মনের কথা। কেউ বলেন কেউ বলেন না। তবে কারো কারো মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে, অতি দুঃখে এবং কষ্টে। এই যখন দেশের মানুষের মনের কথা তখন, সুশীলরা সুশীল ভাষায় রাজনীতিবিদদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। এই সুশীল-বুদ্ধিজীবিরা আসলে আশীল (আওয়ামী বুদ্ধিজীবি), বিশীল (বিএনপি বুদ্ধিজীবি), জাশীল (রাজাকার বুদ্ধিজীবি), থুশীল (জাপা বুদ্ধিজীবি), বাশীল (বাম বুদ্ধিজীবি) এবং কুশীল (যে সব বুদ্ধিজীবি রঙ বদলান)। এই সুশীলদের কাছে থেকে মানুষ কি আশা করতে পারে সুষিল ভাষায়? কিছু ভদ্র ভাষায় সবসময়ই ৮০% দলকানা-১৫% প্যাচাল-৫% সেও ভাল টাইপ কথাবার্তা। আর এখন তো টিভিতে টকশো নামক এক “শব্দ বেশ্যাবৃত্তি” চলছে। যে যত বেশী বেশ্যাবৃত্তি করতে পারছে তার নাম তত উপরে।

গত কুড়ি বছরে গনতন্ত্র পাবার পর থেকে সহিংস আন্দোলনে ২,৫০০ লোকের প্রান গিয়েছে। তারপরেও আমরা ভদ্রতা করে একে বলি না যে গৃহ যুদ্ধ চলছে। কারণ যুদ্ধে সৈনিক থাকে সামনে। যার যার যোদ্ধারা হয় টার্গেট। যে লোকগুলো মারা গেছে তারা হল সাধারন মানুষ, যারা খেঁটে খায়। যাদের লেক্সাস, পাজেরো, প্রাডো, মার্সিডিজ বা ল্যান্ড রোভার নেই। যারা বেচেঁ থাকার তাগীদে হরতাল ও অবরোধে বাড়ীর বাইরে আসেন। খোজঁ নিয়ে দেখেন যে সব কুলাঙ্গর নেতাগন হরতাল অবরোধ করছেন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখছেন এবং সাধারন চাকুরিজীবি সেখান কাজ করতে যাবার পথে অথবা ফিরবার পথে তাদেরই দেয়া আগুনে বা ককটেলে মারা যাচ্ছেন।

আপা, নেতৃ, নেতা, জ্বী আচ্ছা, মহামান্য, জননেতা, স্বপ্নদ্রষ্টা ইত্যাদি ইত্যাদি বিশেষণ যোগে তাদের সম্বোধনের সময় শেষ হতে চলল। ভদ্র ভাষায় আর কথা নয়। আসলেই ভদ্র ভাষায় আর কথা নয়। কোন কালে কে শাহবাগে বাসে আগুন দিয়ে ১১জন মেরেছিল- তাই আজো সেই শাহবাগে বাসে আগুন দিয়ে ১৯ জনকে ঝলসে দিয়েছি। এই টাইপ লোকদের মুখের ভেতর “গু” ঢুকিয়ে দেয়া উচিত। ১১ আর ১৯ সবাই সাধারণ মানুষ। তাদের পুড়িয়ে মারার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ক্ষমতা দখল। তোর ক্ষমতার মা………………………। শালা কুত্তা নেতার বাচ্চারা আমাদের পুড়িয়ে দিয়ে আবার আমাদের কাছেই ভোট চাস?

এই ক্ষমতা নিয়ে যুদ্ধরত জারজদের হাত থেকে দেশ মুক্তি চায় সাধারণ মানুষ মুক্তি চায়। তাই আজ থেকে এই হোক, যে যেখানে আছেন, যার যা আছে তাই নিয়ে এই শুয়রদের পিটিয়ে মেরে ফেলা হোক। কয়জন নেতা আছেন এই দেশে? ৮/৯ কোটি ভোটারের ৫% মনে হয় হবে না। এই ৮/৯ কোটি ভোটারদের পুড়িয়ে মেরে ভোটাধিকার টিকিয়ে রাখার দরকার নেই। ৮/৯ কোটি ভটার যদি রাস্তায় নেমে এসে রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, যদি প্রত্যকে একটি করেও কিল/ঘুষি দেয়া তাইলেই দেশের মানুষ শান্তি পাবে।

তাই আজ এই অন্ধকার সময়ে মুক্তির ডাক হল “গণপিটুনির ডাক”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *