একটা অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে, অক্ষমতার যন্ত্রণা। ধরে নিচ্ছি এই যন্ত্রণাটা আরো অনেকেরেই হচ্ছে। এই অক্ষমতা কি নিয়ে? অক্ষমতা হল কিছু না করতে পারা নিয়ে। কিসের কিছু না করতে পারা? কত কিছুই তো আমরা করতে পারি না। কত কিছুই নিয়েই তো আমাদের অক্ষমতার যন্ত্রণা আছে। তবে সময়ের সাথে সাথে এই না করতে পারার বিষয়গুলোর পরিবর্তন ঘটে। আবার সময়ে সময়ে কিছু কিছু না করতে পারা অসহ্য রকমের হয়ে দাঁড়ায়। কুঁড়ে কুঁড়ে খেতে থাকে। দম বন্ধ করা কষ্ট হয়।
এই মুহুর্তে আমার যন্ত্রণাটা হল রাজনৈতিক। অনেকেই বলবেন এ আর নতুন কি? আমরাও আছি এই যন্ত্রণা নিয়ে। হ্যা, আমি মেনে নিচ্ছি দেশের সমস্ত মানুষ আছেন এই যন্ত্রণা নিয়ে। অনেকে এই যন্ত্রণা বুকে ধারন করে আগুনে ঝলসে গেছেন, চলে গেছেন না ফেরার দেশে। সামনের কিছুদিন অথবা আরো অনেকদিন আরো অনেকেই চলে যাবেন। আর কেউ কেউ অগ্রিম বিবৃতি দেবেন এই আগুনে ঝলসে যাবার বা ঝলসে দেয়ার দায় নিয়ে। আর কখনই যারা ঝলসে দেন তারা আইনের আওতায় আসবেন না। ঝলসে যাওয়া পরিবারগুলো বিচার পাবে না। তাদের চোখের পানি শুকিয়ে যাবে, আশায় আশায় বুক বাধবেন-সত্যি বলতে কখনই হয়ত আশা করেন না যে, তারা বিচার পাবেন। তাই বুকে আশাও থাকে না। “উদ্ভট উটের পিঠে স্বদেশ” নাকি “স্বদেশের বুকে উদ্ভট উটেদের বেহায়া বিচরন”?
এই ঝলসে যাওয়ার দলে আজ রাতেই আরো দু’জন নাম লেখালেন। নির্বাচনি তফসিল ঘোষনা কে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া তান্ডবে মৃতের মিছিলে অংশগ্রহনকারীদের সঙ্খ্যা বেড়ে চলল। একটা প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে……যারা আগুনে ঝলসে দেয় তারা কি সাহস রাখে জয়-তারেক-ফখরুল-আশরাফ দের ঝলসে দেবার? তা কিভাবে হয়? আসলে তারা তো ঝলসান তাদের- যারা ছাপোষা জীবণ নিয়ে এই দেশে কীট-পতঙ্গের মত বেঁচে থাকে। ঝলসে দেবার সরঞ্জাম-টাকা-পয়সা আসে জয়-তারেক-ফখরুল-আশরাফ দের পকেট থেকে। এখানেও প্রশ্ন…… এই টাকা পয়সা কি তারা পকেট থেকে দেন? নাকি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা হিসেবে নেন, অথবা যাদের ঝলসে দেয়া হয় তাদেরই কারো কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে কেড়েঁ নেয়া। এ এক অদ্ভুত নষ্ট পথের বিভিন্ন কানা গলি। উত্তর মেলা ভার। উত্তর মেলাতেও চাইনা। চাই এই নষ্ট পথটি যেন ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয়া হয়।
যন্ত্রণা কথা বলছিলাম। যন্ত্রণাটা হল স্বাধীন দেশে পরাধীন কীট হিসেবে বেঁচে থাকার যন্ত্রণা। ৪২ বছর ধরে এই যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছি আমরা। নষ্ট পথ রচনার শুরুটা হয়ে গেল স্বাধীনিতা প্রাপ্তির পর থেকেই। ৯ মাস যুদ্ধ না হয়ে ৯ বছর যুদ্ধ হলে হয়ত আজ আমাদের যন্ত্রণা পেতে হত না। অথবা যুদ্ধের পরপর যদি একটি সর্বাত্মক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাকে পাকাপোক্ত করা যেত। তাহলেও হয়ত যন্ত্রণা পোহাতে হতনা। কিন্তু সেটা নিয়েও কথা বলে লাভ নেই। এভাবে ভদ্র ভাষা ব্যবহার না করে খিস্তি করতে ইচ্ছে করছে। বুনো শুয়রদের কামড়া কামড়িতে মানুষের জীবন অতিষ্ট।
তথাকথিত নেতারা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র-ইউ’কে ডেকে আনছে দেশের সমস্যা সমাধানে। সেলুকাস!! যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সিরিয়ায় আসাদ বিরোধী শক্তিকে সমর্থন যোগাচ্ছে, অর্থ-অস্ত্র দিচ্ছে। আর এই আসাদ বিরোধীদের মধ্যে সংখ্যা গরিষ্ঠ্য হচ্ছে জিহাদী-আল কায়েদা। আসাদের অপসারনের পর যুক্তরাষ্ট্র কি করবে সিরিয়ায়? এরপর জিহাদী খেদাও। মাঝখান থেকে সিরিয়ার মানুষের মানুষ হিসেবে পরিচয় দেবার উপায় থাকবে না। এই নব্য উপনিবেশবাদী যুক্তরাষ্ট্র’র বাংলাদেশে তাদের পছন্দের ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামী। বাহ হিসাবটা খুব সোজা।
আমরা সবাই নপুংষক হয়ে গেছি। সবাই আশা করছি একজন নেতা বেরিয়ে আসবেন আমাদের রক্ষা করতে। কিন্তু কেউ নেতা হতে চাই না। অথবা বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাধঁবার দায়িত্ব নিতে চাই না। বড্ড প্রয়োজন ছিল একজন মাওলানা ভাসানীর- একজন নেতার। দেশে সব মিলিয়ে প্রায় ৫০টি রাজনৈতিক দল আছে। কয়েকলাখ নেতা আছে। কিন্তু আমাদের জন্য সত্যিকারের কোন দলও নেই নেতাও নেই। রাজাকার-স্বৈরাচার-পরিবারের বাইরে যে বামদলগুলো আছে তারা আবার তত্ত কপচাতে কপচাতে খন্ডিত হতে হতে নিঃশেষিত।
মিসরে মুরসির নব্যস্বৈরাচারী মনোভাবের কারনে দু’বছর পর আবারো সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে, বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। সমর্থন যোগায় সেনা হস্তক্ষেপের। আমাদের দেশের মানুষ অতিষ্ট হয়ে কোথায় যাবে? কার কাছে যাবে? কাকে সমর্থন যোগাবে? মানুষ কি রাস্তায় নেমে আসবে? অনেক প্রশ্ন আর দোদুল্যতা।
যে যাই বলুক মুক্তির পথ হল- হাসিনা-খালেদা এবং তাদের পরিবার ও চ্যালা চামুন্ডা, স্বৈরাচার-রাজাকার মুক্ত দেশ। আর এই পথে নেতৃত্ব দিতে যে বা যারা এগিয়ে আসবে তার পিছনেই নপুংষক হয়ে যাওয়া মানুষগুলো মাথা উচুঁ করে দাঁড়াবে।

Leave a Reply