আমি নিজেকেই ধিক্কার জানাই!!

Tazreenতেলে মাথায় ঢালো তেল শুকনা মাথায় ভাঙ্গো বেল!! কবে যেন পড়েছিলাম ঠিক মনে নেই- “Creative Capitalism” সম্পর্কে। ক্যাপিটালিজমের ব্যর্থতার কারণে ক্রিয়েটিভ ক্যাপিটালিজম এর আমদানি করার চেষ্টা। বাংলাদেশ হতে পারে এই ক্রিয়েটিভ ক্যাপিটালিজমের উৎকৃষ্ট উদাহরন।

গার্মেন্টস ট্রাজেডির কারণে প্রধানমন্ত্রী শোক দিবসের ঘোষণা দিয়েছেন। শোক দিবসের অভাব নেই আমাদের এই বাংলাদেশে। আর এই গার্মেন্টস ট্রাজেডির ঘটনা ঠিক কতগুলো আমাদের সরকার প্রধানের কি হিসেব আছে? হয়ত তাকে কাউকে জিজ্ঞেস করে যেনে নিতে হবে। শোক দিবস পাচ্ছি কিন্তু আর যেন শোক এর ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে কেন কোন ঘোষনা পাইনা?

সরকার হয়ত ভাবে অতিরিক্ত জনসংখ্যার এই দেশে কয়েকজন মরলেই বা কি আসে যায়? লাশ নিয়ে সওদাটা ভালই হয়। ১১৬ জন মরছে কালকে-১১,৬০০ (এগারো হাজার ছয়শ) জন্ম নিছে। যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক তাদের কাছে এটা মাত্র সংখ্যা মানুষ নয়।

আমার ভাবনায় একটা সহজ হিসাব- যার একটা গাড়ি আছে (ন্যুনতম ১৩ লাখ) সেই মোটামুটি ধনীর কাতারে পরেন। আর যার গাড়ির দাম ৫০ লাখ থেকে উপরে সে হল বেসম্ভব ধণী। আমাদের লজ্জা নেই।  ব্যাবসায়ী সংগঠন গুলোতে সরকারের ইচ্ছায় কমিটি আসে। আর এই কমিটি সরকারের সুযোগ নিয়ে ফুলে ফেঁপে উঠে। এত শ্রেণী বৈষম্য যে লুকিয়ে রাখাও অসম্ভব। কিছুদিন আগে সরকার প্রধান যুবকদের বলেছেন আত্মকর্মসংস্থান তথা উদ্যোক্তা হবার জন্য। উনি কি জানেন কর্মসংস্থান ব্যাংক শুধু দলীয় লোকদের ঋন দেয়? অন্য ব্যাংকে যাবারতো প্রশ্নই আসে না। ব্যাবসায়ীরাই ব্যাংক এর মালিক তাদের মুনাফা দরকার, তারা ঋন দেবেন তাদের, যাদের আছে।

একসময় বিটিভি তে যেসব নাটক দেখাত তার সবই ছিল মধ্যবিত্ত শ্রেনীর মানুষ নিয়ে। এখন আর মধ্যবিত্ত শ্রেণী দেখা যায় না। টিভিতে এখন ধণী আর গ্রাম কেন্দ্রিক হাস্যকর নাটক দেখায়। এর মানে মধ্যবিত্তরা হারিয়ে যাচ্ছে। যারা একসময় পরিবর্তনের নিয়ামক শক্তি ছিল।

কিছুদিন আগে আমাদেরই এক আইটি ব্যবসায়ী বন্ধু বলছিলেন- আইটি ব্যাবসা দিয়ে টাকা হবে না, যদিনা সরকারি কাজ পাই। টাকা বানাতে হলে সরকারি কাজ চাই, অথবা সরকারের নেক নজরে থাকা চাই। ধণী ব্যাবসায়িরা দল ও সরকারকে টাকা দেয় ব্যাবসা পাবার জন্য। আর সরকার গুটিকয়েক ব্যবসায়ীদের সুযোগ দেয় টাকা পাবার আশায়। কে কার ক্রীতদাস?

গার্মেন্টস ট্রাজেডির কারনে ধিক্কার বন্যা বইছে। সরকারকে সবাই ধিক্কার জানাচ্ছে। সরকার প্রধানকে ধিক্কার জানাচ্ছে।

আমি শুধু নিজেকেই ধিক্কার জানাই। ধিক্কার আমারই প্রাপ্য। অন্য কেউ নয়।

কারন আগামীকাল অথবা তারপরদিন আমিও ঠিক ভুলে যাব গার্মেন্টস ট্রাজেডির কথা। যেমন ভুলে গেছি আগের ঘটনাগুলো। আবার আমি ভোট দিব আওয়ামী লীগ বা বিএনপিকে। আবার আমি গালি দিব, আবার হাসিনা জিন্দাবাদ-খালেদা জিন্দবাদ বলে শ্লোগান দিব।

আমি হতাশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *