আমাদের প্রধানমন্ত্রী

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়ের পেছনে কাজ করেছিল ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদের চারদলীয় জোট সরকারের পাঁচ বছরের দুঃশাসন এবং জামাত তোষন। একই সাথে তরুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করার জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ ও যুদ্ধাপরাধিদের বিচারের আশ্বাস। এই বিজয়ের পর প্রত্যাশিত ছিল যে আওয়ামী সরকার প্রতুশ্রুতি বাস্তবায়নে গতিশীল হবে। কিন্তু চিত্রটি বর্তমানে সম্পূর্ণ বিপরীত। যেই লাউ সেই কদু। নতুন বোতলে মোড়ানো পুরানো বস্তা পঁচা মাল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অনেক আত্ম-অহমিকা এবং আত্ম-তুষ্টিতে ভোগেন, যে কত কিছু করে ফেলেছি। চাটুকারদের কারনে বঙ্গবন্ধুকে জীবন দিতে হয়েছে। আর এখনকার চাটুকারদের কারণে দেশের সাধারণ মানুষকে জীবণ দিতে হচ্ছে। তিনি মনে হয় না এই তোষামদকারীদের কোনদিনই দূরে সরাতে পারবেন। তোষামদীর উজ্জ্বল উদাহরন হচ্ছে তার পুরস্কার সমূহ। চাটুকারদের দেয়া তথ্যে তিনি বেশ ভালই থাকেন, দেশ কেন দিকে গেল তা খোঁজ নেবার সময় কই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা, গণতন্ত্রের মানস কন্যা……………ব্লাহ ব্লাহ কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা মানবাধিকার, আইন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের জন্য বিভিন্ন ডিগ্রী অর্জন করেছেন এবং পুরস্কার পেয়েছেন। স্বভাবতই সবাই আশা করেছিল আর যাই হোক কাজ তিনি এবার করবেন। তিনি না করেও পুরস্কার পেয়েছেন এবার করে আরো পুরস্কার ও ডিগ্রী ঘরে তুলবেন। আশা আশাই থেকে গেছে। ফিরিস্তি দেবার প্রয়োজন নেই। বিচার বহির্ভূত হত্যকান্ড, ছাত্রলীগের দ্বারা হত্যাকান্ড এবং অশান্তি কি পরিমান বিরাজমান এই দেশে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

১।তিনি আইন প্রতিষ্ঠার কথা বলেন কিন্তু দেশে কি আইন আছে? আইন বহির্ভূত হত্যকান্ড কি বন্ধ হয়েছে? আইনের শাসন কি দেশে আছে? ( পেয়েছেন ডক্টর অব ল’ডিগ্রী বোষ্টন ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র- ১৯৯৭, ওয়াসেদা ইউনিভার্সিটি, জাপান- ১৯৯৭, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়া- ১৯৯৯ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ- ১৯৯৯ থেকে।)

২। তিনি ধর্মীয় সম্প্রিতীর কথা বলেন এবং তার আদরের সন্তানেরা ধর্মীয় সঙ্খ্যালঘুদের জায়গা-সম্পত্তি দখল করেন এবং ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। উনি কন্ট্রোল করতে পারেন না।  (পুরস্কার পেয়েছেন মাদার তেরেসা পদক, সর্বভারতীয় শান্তিসংঘ- ১৯৯৮ এবং গান্ধী পদক -তৃণমূল পর্যায়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রসারে জন্য, গান্ধী ফাউন্ডেশন, নরওয়ে- ১৯৯৮)

৩। এছাড়া দেশ ও সমাজে শান্তি ও গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তিনি আরো বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন।

এত কাজ এত পুরস্কার তারপরেও তার সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, স্বৈরাচারী মনোভাব এবং অশান্তির দেশ বাংলাদেশ। হায়রে পদক এবং ডিগ্রী লোভী প্রধানমন্ত্রী অথবা জননেত্রী আপনার নূন্যতম লজ্জাবোধ থাকা উচিত ছিল। শুধু পদক আর ডিগ্রী দেখিয়ে মানুষকে বোকা বানিয়ে রাখা যায় না। পদক আর ডিগ্রী যেহেতু নিলেনই তখন তা বাস্তবায়ন করে এগুলোর মর্যাদা রাখতেন এবং নিজেও আরো সম্মানিত হতেন। গোলাপীদের মত গোলাপী বেগমের সাথে ঝগড়া করলেই দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে আর মানবাধিকার ঠিক থাকবে না। আপনি কোন পথে হাটছেন তা কি ভেবে দেখেছেন। আপনি নির্বাচনের আগে ইশ্তেহারে বহুত কথা কইছিলেন একবার কি সেগুলো উলটে দেখবেন????

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *