এক “ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ” এবং আমাদের স্বপ্ন

বিভক্তি আজ আমাদের দেশের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে। আমরা কোন কিছুতেই এক হতে পারি না। বিভক্তি আজ আমাদের এক চরম অনুশীলনের নাম। যে যত বেশী বিভক্তি তৈরি করতে পারেন তিনি তত বেশী সফল এবং উচ্চমহলের সুনজরে থাকেন। বিভক্তির আবর্তে দেশের প্রকৃত অবস্থা কি তা আমরা ভুলতে বসেছি। ২০০ বছর উপমহাদেশ শাসনে ব্রিটিশরা যে বিভক্তি’র রাজনীতি শিখিয়ে গেছে তা আমরা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলছি। ২৪ বছর পাকিস্তানীদের শোষন কিছুটা হলেও সে শিক্ষা ভুলে বাঙ্গালীদের এক হতে সাহায্য করেছিল। ৪৩ বছর আগের সেই ঐক্যবদ্ধ হবার এবং এক স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়বার যে প্রত্যয় ছিল তা এখন আর নাই। স্বরাজ প্রতিষ্ঠা হবার পর থেকেই ষড়যন্ত্র চলতে থাকে বিভক্তি’র রাজনীতি’র পূনর্জন্মের। প্রায় অর্ধ শত বছরের চেষ্টায় আজ সেটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। ছাত্র-শিক্ষক-পেশাজীবি-কৃষক-শ্রমিক-জনতা আজ বিভক্তির বন্যায় ভেসে গেছে।

বাংলাদেশের রাজনীতি’র প্রেক্ষাপটে শান্তির জন্য মাঝে মাঝে মনে হয়, দেশকে দুই ভাগ করে দুই পরিবারকে দিয়ে দেয়া হোক। দুই অংশে তারা দুই রাজ বংশের প্রতিষ্ঠা করুক। এতে আর কিছু না হউক রাজায় রাজায় যুদ্ধে “উলুখাগড়ার” প্রান যাবে না। ৬৯, ৭১, ৯০ এর অর্জনকে আমাদের পদদলিত করতে কুন্ঠা বোধ হয় না। আমাদের রাজনীতির প্রয়োজনে আমরা পতিত স্বৈরাচারের সাথে, দেশ বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের সাথে রাজনৈতিক মিত্রতা তৈরিতে লজ্জা পাই না। যে কোন মূল্যে ক্ষমতার চর্চাই হল আসল। দেশের মানুষ বাঁচলো কি মরলো তাতে আমাদের রাজনীতিবিদদের কি আসে যায়?

দুই দল আর স্বৈ-রা দল বাদেও আরো যেগুলো আছে সেগুলো আসলে দু’দলেরই বর্ধিত অংশ। ছোট ছোট দলের বড় নেতা হয়ে হালুয়া রুটির ভাগ বসানো অনেক সহজ। দল মানেই একটি ব্যাবসা একটি দোকান। এইসব ব্যবসায় বিনিয়োগ অনেক লাভজনক। তাইতো দেশে ১০০ এর উপর রাজনৈতিক দল আছে। তাদের অনেকের আবার নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পর্যন্ত নেই। তবুও দুলের জোট ভুক্ত, হালুয়ার ভাগ নিশ্চিত।

তারপরেও মানুষ আশা করে স্বপ্ন দেখে কেউ না কেউ বিপ্লব নিয়ে আসবে। এই নষ্ট সমাজ ভেঙ্গে নতুন সমাজ গঠন করবে। বিভক্তি মুছে ফেলে ঐক্য তৈরি করবে। ৫ই ফেব্রুয়ারীর প্রজন্ম চত্বরকে অনেকেই সেই বিপ্লব হিসেবে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেটা এখনও হয়নি কিন্তু হবে না তাও কেউ বলতে পারে না। শাহবাগ প্রজন্ম চত্বর বারুদের সলতেতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে কিন্তু এর শেষ মাথা কয়টা তা উদ্যোক্তারাও জানেন না। সলতের আগুন যে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে গেছে তা স্পষ্ট। বাতাসে ফিস ফাস হচ্ছে আসছে তারা আসছে। এরকমই এক সলতের আগুনকে কাছ থেকে দেখছি। প্রচন্ড উম্মত্ততায় যা বিস্ফোরন ঘটানোর অপেক্ষায়। ঐক্য আর পরিবর্তনের প্রত্যাশায় কিছু বিপ্লবী প্রান কাজ করছে। বিপ্লবকে অনিবার্য করে তুলতে চলছে প্রস্তুতী। সাধারন মানুষের স্বপ্নের মত আমারও স্বপ্নপূরনের কান্ডারীদের খুঁজে পাচ্ছি এখানে। স্বপ্ন দেখি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের, স্বপ্ন দেখি পরিবর্তনের, স্বপ্ন দেখি মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যয় বাস্তবায়নে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *