বাঙ্গালী মুসলমান

ঢাকাকে বলা হত মসজিদের শহর। বাঙ্গালী মুসলমান এই নিয়ে অনেক গর্ব করত। এখনো করে। এখন পুরো বাংলাদেশটাই মসজিদের। শুধু মসজিদই নয়, মাদ্রাসাও ছড়িয়ে পড়িয়েছে প্রতি গলিতে। তারপরেও নতুন নতুন মসজিদ মাদ্রাসা তৈরিতে চলছে একধরনের প্রতিযোগিতা। অবৈধ টাকার একটা অংশ ব্যয় হয় এতে। সাথে থাকে কিছু মধ্যপ্রাচ্যের টাকা।

বাঙ্গালী মুসলমান পরকালের কথা চিন্তা করে টাকা ঢালতে থাকে আল্লাহর দান বাক্সে। যে রিকশাওলাটি সারাদিনের অমানবিক পরিশ্রমের বিনিময়ে কিছু টাকা আয় করে সেখান থেকে সেও দু/দশ টাকা দান করে মসজিদের বাক্সে। মসজিদের সামনের সারি বরাদ্দ থাকে টাকা-পয়সাওয়ালা নামাজীদের জন্য। যাদের ৯০ ভাগ আয়ই অবৈধ। তাতে অবশ্য ইমাম সাহেবের কিছু আসে যায় না। ইমাম সাহেবের বিশাল ভুড়ির সমঝদার একমাত্র তারাই।

আর এই বাঙ্গালী সমাজই আধুনিক বাংলার মডারেট মুসলমান সমাজ। যাদের ছেলে-মেয়েরা মাদ্রাসাতে কখনই যায় না। যায় ইংলীশ মিডিয়াম কোন স্কুলে অথাব কোন ভাল স্কুলে। কিন্তু এদের পৃষ্ঠপোষকতায় মসজিদ-মাদ্রাসা গজিয়ে ওঠে আনাচে কানাচে। প্রাত্যহিক জীবণে এই বাঙ্গালী মুসলমান সমাজ ধর্মের চৌহদ্দি না মাড়ালেও আল্লাহ আর নবী বিশ্বাসে কোন কমতি নেই। কেউ কেউ মদ্য পানের সময়ে একবার হলেও বলবে আল্লায় মাপ করব। কেউ কেউ ঘরে স্ত্রী রেখে অন্য নারীর সাথে সহবাস শেষে বাসায় ফিরে গোসল করে নামাজে দাঁড়িয়ে যায়।

বাঙ্গালী সমাজ ধর্মকে নিজের মত করে ব্যবহার করলেও ধর্মের সমালোচনা অথবা মুক্তচিন্তার চর্চা কোন কালেই সহ্য করে নাই। নিজেরা ছুড়ি হাতে গলা কাটতে নেমে না গেলেও, গলা কাটার লোক তৈরি করেছে হাজারে হাজারে। ইনিয়ে বিনিয়ে গলা কাটার পক্ষ্যে সাফাই গেয়েছে। তাই অবাক হবার কোন কারণ নাই আনিস আলমগীর, আবদুন-নূর-তুষার বা ফারুকীর মন্তব্য দেখে।

বাঙ্গালী মুসলমান সমাজের এই বকধার্মিকতার সাথে তাল মিলাতে গিয়ে দেশটাই আস্ত এক বকধার্মিক দেশে পরিনত হয়েছে।

About the author

Ahmed Nadir

Add comment

By Ahmed Nadir

Categories